BAYAS logoBAYAS
কম্পিউটার ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার প্রতিরোধ ও অপসারণ — ২০২৬-এ বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড — BAYAS Computer Repair Dhaka

Security

কম্পিউটার ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার প্রতিরোধ ও অপসারণ — ২০২৬-এ বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ গাইড

14 June 2026 · 12 min read · BAYAS Editorial

বাংলাদেশে কম্পিউটার ভাইরাস একটি মহামারির মতো ছড়িয়ে আছে। আমরা BAYAS-এ প্রতিদিন অন্তত ৫-৭টি ভাইরাস-আক্রান্ত কম্পিউটার দেখি। কোথাও একটি পেনড্রাইভ প্লাগ করতেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো অফিসে। কোথাও আবার ক্র্যাক সফটওয়্যার ডাউনলোড করে বসে আছেন ব্যবহারকারী, জানেনই না যে তার কম্পিউটার এখন একটি জম্বি মেশিন — সাইবার অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে।

২০১৮ সাল থেকে ঢাকার ৩৬টি জোনে ৫,০০০+ কম্পিউটার সার্ভিসের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি: বেশিরভাগ ভাইরাস ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভব। একটু সচেতনতা, কয়েকটি ফ্রি টুল এবং কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই আপনার কম্পিউটার ভাইরাসমুক্ত রাখতে পারবেন।

এই গাইডটি পড়লে আপনি জানবেন:

  • বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কোন ধরনের ভাইরাস দেখা যায়
  • পেনড্রাইভ ভাইরাস থেকে বাঁচার সহজ উপায়
  • ফ্রি ও পেইড অ্যান্টিভাইরাসের তুলনা
  • ভাইরাস আক্রমণের আগে ও পরে করণীয়
  • কখন প্রফেশনাল হেল্প নেওয়া জরুরি

Computer virus protection guide Bangladesh — BAYAS cybersecurity tips


বাংলাদেশে কম্পিউটার ভাইরাসের বর্তমান চিত্র

বাংলাদেশে ভাইরাসের ধরন এবং বিস্তারের ধরণ উন্নত দেশের তুলনায় ভিন্ন। এখানে কয়েকটি প্রধান কারণ:

কারণবিস্তারিত
পেনড্রাইভের অতিরিক্ত ব্যবহারদোকানে প্রিন্ট, ফ্রিল্যান্সিং ফাইল শেয়ার, অফিসের মধ্যে ডাটা ট্রান্সফার — সবকিছুতেই পেনড্রাইভ। এক সংক্রমিত পেনড্রাইভ কয়েক ডজন কম্পিউটারকে আক্রান্ত করতে পারে।
ক্র্যাক/পাইরেটেড সফটওয়্যারAdobe Photoshop, Microsoft Office, বিভিন্ন ডিজাইন সফটওয়্যারের ক্র্যাক ভার্সন — এগুলোতেই লুকিয়ে থাকে ট্রোজান ও ব্যাকডোর।
ফ্রি ওয়ালপেপার/মুভি ডাউনলোডবিভিন্ন টরেন্ট ও থার্ড-পার্টি সাইট থেকে ডাউনলোড করা ফাইলের ভেতরে ম্যালওয়্যার লুকানো থাকে।
অটোমেটিক প্লে ফিচারআগে পেনড্রাইভ প্লাগ করলেই অটোরান ফিচারের মাধ্যমে ভাইরাস অটোমেটিক ইনস্টল হতো। উইন্ডোজ এখন এটি নিষ্ক্রিয় করলেও সবাই আপডেটেড নয়।
ফিশিং ও ক্ষতিকারক লিংকইমেইল, Facebook Messenger, WhatsApp-এ আসা অজানা লিংকে ক্লিক করলেই ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হয়।

BAYAS-এর ডাটা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে আমাদের কাছে আসা ভাইরাসজনিত সমস্যার মধ্যে শীর্ষে আছে:

  1. Pen Drive ভাইরাস (Shortcut Virus) — ৪২% কেস
  2. Adware ও Browser Hijacker — ২৩% কেস
  3. Ransomware — ১৫% কেস (ক্রমশ বাড়ছে)
  4. Trojan ও Backdoor — ১২% কেস
  5. Cryptominer — ৮% কেস

সবচেয়ে সাধারণ পেনড্রাইভ ভাইরাস — শর্টকাট ভাইরাস

আপনার পেনড্রাইভে প্লাগ করার পর সব ফোল্ডার শর্টকাট (Shortcut) হয়ে গেছে? ফাইলগুলো দেখা যাচ্ছে না কিন্তু পেনড্রাইভে স্পেস নেওয়া হচ্ছে? এটি শর্টকাট ভাইরাস — বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা ভাইরাস।

কিভাবে কাজ করে:

এই ভাইরাস আপনার ফাইল ও ফোল্ডারকে হাইড (Hidden) করে ফেলে এবং তাদের জায়গায় শর্টকাট তৈরি করে। যখন আপনি শর্টকাটে ক্লিক করেন, তখন মূল ফাইল না খুলে ভাইরাসটি অ্যাক্টিভেট হয় এবং আপনার কম্পিউটার ও অন্য ড্রাইভে ছড়িয়ে পড়ে।

নিজে নিজে সমাধান (ভাইরাস অপসারণ):

পদ্ধতি — কমান্ড প্রম্পট দিয়ে:

  1. পেনড্রাইভ প্লাগ করুন, ড্রাইভ লেটার নোট করুন (যেমন E:, F:)
  2. Start মেনুতে গিয়ে cmd লিখে কমান্ড প্রম্পট খুলুন (Run as Administrator)
  3. নিচের কমান্ডগুলো লিখুন (প্রতিটি এন্টার চাপুন):
E: (আপনার ড্রাইভ লেটার লিখুন)
attrib -s -h -r /s /d
  1. এরপর একটি ফোল্ডার দেখবেন System Volume Information নামে — এটি সাধারণত হাইডেড থাকে। বাদ দিন।
  2. .lnk এক্সটেনশনের সব শর্টকাট ফাইল ডিলিট করে দিন।
  3. আপনার ফাইলগুলো এখন দেখা যাবে। সেগুলো অন্য একটি ফোল্ডারে কপি করে নিন।
  4. পেনড্রাইভ ফরম্যাট করে নিন (ডাটা ব্যাকআপ নিয়ে)।

যদি কাজ না করে: ভাইরাস রুটকিট বা ব্যাকডোর লেভেলে থাকলে উপরের পদ্ধতি কাজ নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে BAYAS-এর কম্পিউটার হোম সার্ভিস নিন — আমরা অফলাইন স্ক্যানিং এনভায়রনমেন্ট থেকে সম্পূর্ণ ভাইরাস মুক্ত করি।


ভাইরাস প্রতিরোধের ১০টি কার্যকর উপায়

প্রতিরোধই সর্বোত্তম নিরাময়। নিচের ১০টি টিপস ফলো করলে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস থেকে ৯৫% নিরাপদ থাকবে:

১. Windows Defender-ই যথেষ্ট (যদি Windows 10/11 ব্যবহার করেন)

Windows 10 ও 11-এর বিল্ট-ইন Microsoft Defender আধুনিক বেশিরভাগ ভাইরাস ধরতে সক্ষম। এটিকে সর্বদা আপডেটেড রাখুন এবং কখনোই নিষ্ক্রিয় করবেন না।

কি করবেন: Settings → Privacy & Security → Windows Security → Virus & Threat Protection → "Check for updates" এ ক্লিক করে আপডেট রাখুন। মাসে অন্তত একবার "Quick Scan" চালান।

BAYAS পরামর্শ: Windows Defender বন্ধ করে অজানা অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করবেন না। বাংলাদেশের কম্পিউটার দোকানে ১০০-২০০ টাকায় যেসব "লাইফটাইম" অ্যান্টিভাইরাস সিডি বিক্রি হয়, সেগুলোর অধিকাংশই পুরনো বা ফেক।

২. পেনড্রাইভ প্লাগ করার আগে Autorun নিষ্ক্রিয় করুন

পেনড্রাইভ প্লাগ করলে অটোমেটিক চালু হওয়ার ফিচার বন্ধ করে দিন।

Windows 10/11: Settings → Bluetooth & Devices → AutoPlay → "AutoPlay" বন্ধ করে দিন।

Windows + R → gpedit.msc (Windows Pro ইউজারদের জন্য): Computer Configuration → Administrative Templates → Windows Components → AutoPlay Policies → "Turn off AutoPlay" এনাবল করুন।

৩. ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহার বন্ধ করুন

ক্র্যাক Adobe Photoshop, Illustrator, Office বা অ্যান্টিভাইরেস ব্যবহার করছেন? এগুলো সবচেয়ে বড় ভাইরাসের উৎস। একটি ক্র্যাক ফটোশপ ইন্সটল করতে গিয়ে আপনার পিসিতে ট্রোজান, অ্যাডওয়্যার এবং মাইনার বসে যেতে পারে।

BAYAS পরামর্শ: ফ্রি বা কিনে কেনার অভ্যাস করুন। ফ্রিল্যান্সার বা ছোট ব্যবসার জন্য Google Docs/Sheets (ফ্রি), GIMP (ফটোশপের বিকল্প), LibreOffice (Office-এর বিকল্প) ব্যবহার করতে পারেন। এককালীন লাইসেন্সের দাম সাধারণত মাত্র ৩০০-৮০০ টাকা যখন রিপেয়ার বিল আসে ৫,০০০-৫০,০০০ টাকা।

৪. ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

Free VPN, Free Download Manager, Coupon Finder নামের অনেক এক্সটেনশন আপনার ব্যক্তিগত ডাটা চুরি করে। শুধুমাত্র স্টোর-ভেরিফাইড এবং ৫০০০+ রেটিং আছে এমন এক্সটেনশন ব্যবহার করুন।

কি করবেন: অব্যবহৃত এক্সটেনশন ডিলিট করে দিন। Chrome → Settings → Extensions → "Remove"।

৫. সাপ্তাহিক Windows Update চালান

Windows Update শুধু নতুন ফিচার দেয় না — এটি সিকিউরিটি প্যাচ দেয় যা হ্যাকারদের দুর্বলতা বন্ধ করে। বাংলাদেশের অনেক ব্যবহারকারী "আপডেট করলে কম্পিউটার স্লো হবে" ভেবে আপডেট বন্ধ রাখেন — কিন্তু আপডেট না করাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

কি করবেন: Settings → Windows Update → "Check for updates" → সব ইন্সটল করুন। মাসে অন্তত ২ বার চেক করুন।

৬. ব্রাউজারে পপ-আপ ব্লকার চালু রাখুন

অজানা সাইট থেকে আসা বিজ্ঞাপন ও পপ-আপ — বিশেষ করে "You have won a prize!" বা "Your PC is infected!" — এগুলোই ম্যালওয়্যার ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম। এই পপ-আপে ক্লিক করলেই ভাইরাস ডাউনলোড হয়।

কি করবেন: Chrome → Settings → Privacy & Security → Site Settings → Pop-ups and redirects → "Block" (recommended) চালু রাখুন।

৭. Email ও WhatsApp-এ অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না

বাংলাদেশে ফিশিং আক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। "আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট block হয়ে গেছে" বা "ক্যাসিনো জিতেছেন" টাইপের ইমেইল বা WhatsApp মেসেজে থাকা লিংক কখনোই ক্লিক করবেন না।

কি করবেন: ব্যাংক, গ্রামীণফোন, রবি — কখনোই লিংকে ক্লিক করতে বলেন না। নিজে ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করুন।

৮. গুরুত্বপূর্ণ ডাটার নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন

ভাইরাস আক্রমণ হলেও ব্যাকআপ থাকলে আপনার ডাটা নিরাপদ। র্যানসমওয়্যার আপনার ফাইল এনক্রিপ্ট করবে, কিন্তু ব্যাকআপ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে আমাদের কম্পিউটার ডাটা ব্যাকআপ গাইড পড়ুন।

পরামর্শ: Google Drive (১৫ জিবি ফ্রি) বা OneDrive-এ অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের ব্যাকআপ রাখুন। অফিসের জন্য এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কের ব্যাকআপ নিয়মিত নিন।

৯. নেটওয়ার্ক ও রাউটার সুরক্ষিত রাখুন

এমনকি ভাইরাসমুক্ত কম্পিউটারও অসুরক্ষিত WiFi-এর মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। আপনার রাউটারের ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং WPA2/WPA3 এনক্রিপশন ব্যবহার করুন।

কি করবেন: রাউটারের পেছনে থাকা IP (যেমন 192.168.0.1) ব্রাউজারে লিখে ঢুকে অ্যাডমিন প্যানেলে যান — পাসওয়ার্ড বদলান। BAYAS নেটওয়ার্ক সেটআপ ও রাউটার কনফিগারেশন সার্ভিস দেয় — বিস্তারিত নেটওয়ার্কিং সার্ভিস পেজে দেখুন।

১০. "Show file extensions" চালু রাখুন

একটি ফাইল invoice.pdf.exe বা photo.jpg.scr দেখলে সাধারণ ব্যবহারকারী শুধু .pdf বা .jpg দেখেন। কিন্তু যদি "Show file extensions" চালু থাকে, তাহলে শেষের .exe বা .scr দেখতে পাবেন এবং বুঝতে পারবেন এটি একটি ক্ষতিকারক ফাইল।

Windows 11: File Explorer → View → Show → File name extensions ✅


ফ্রি অ্যান্টিভাইরাসের তুলনা — কোনটি বাংলাদেশের জন্য ভালো?

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য আমরা কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস টেস্ট করেছি:

অ্যান্টিভাইরাসপিসির গতিভাইরাস সনাক্তকরণবিজ্ঞাপন/পপ-আপবাংলাদেশের জন্য উপযোগিতা
Microsoft Defender (Windows বিল্ট-ইন)খুবই ভালোভালোনেইসবার জন্য সেরা পছন্দ
Avast Freeমাঝারি (পিসি ধীর করে)চমৎকারঅনেক বিজ্ঞাপনভালো কিন্তু পিসি ধীর করে
AVG Freeমাঝারিভালোকিছু বিজ্ঞাপনগ্রহণযোগ্য
Bitdefender Freeখুব ভালোচমৎকারন্যূনতমখুব ভালো বিকল্প
Kaspersky Freeভালোচমৎকারন্যূনতমভালো বিকল্প
Malwarebytes Freeখুব ভালোচমৎকার (ম্যালওয়্যারের জন্য)নেইসাপ্লিমেন্টারি স্ক্যানার হিসেবে

BAYAS সুপারিশ: শুধুমাত্র Microsoft Defender চালু রাখুন (যদি Windows 10/11 ব্যবহার করেন) এবং মাসে একবার Malwarebytes Free দিয়ে ফুল স্ক্যান চালান। দুই বা ততোধিক অ্যান্টিভাইরাস একসাথে চালাবেন না — এরা একে অপরকে ভাইরাস মনে করে দ্বন্দ্ব তৈরি করে এবং পিসি স্লো করে দেয়।


ভাইরাস আক্রমণের লক্ষণ — কখন বুঝবেন আপনার পিসি আক্রান্ত?

সব ভাইরাস ধরা পড়ে না। কিছু ভাইরাস নিঃশব্দে কাজ করে। চলুন জেনে নিই কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ:

লক্ষণসম্ভাব্য কারণকী করবেন
কম্পিউটার হঠাৎ ধীর হয়ে গেছে (১-২ সপ্তাহের মধ্যে)Cryptominer বা Background malwareMalwarebytes স্ক্যান চালান
ইন্টারনেট ধীর, কিন্তু Speedtest-এ স্বাভাবিকAdware ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাউনলোড করছেResmon/Process Explorer দিয়ে চেক করুন
ব্রাউজারে অদ্ভুত বিজ্ঞাপন আসে সব ওয়েবসাইটেBrowser Hijackerব্রাউজার রিসেট + অ্যাডওয়্যার ক্লিনার
ফাইল/ফোল্ডার হঠাৎ হাইড হয়ে গেছেShortcut Virus / Pen Drive Virusউপরে দেওয়া পদ্ধতি ফলো করুন
কম্পিউটারে নতুন অচেনা সফটওয়্যার দেখা যাচ্ছেPotentially Unwanted Program (PUP)আনইন্সটল করে ফেলুন
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অজানা লেনদেনKeylogger / Banking Trojanব্যাংকের সাথে সাথে যোগাযোগ + ফুল সিস্টেম ক্লিন
মাইক্রোফোন/ক্যামেরা নিজে নিজে চালু হচ্ছেRemote Access Trojan (RAT)ক্যামেরা ঢেকে রাখুন + প্রফেশনাল হেল্প নিন
ভাইরাস স্ক্যান চালাচ্ছেন কিন্তু কিছুই পায় না, কিন্তু উপসর্গ আছেRootkit / Stealth Malwareঅফলাইন স্ক্যানিং দরকার (BAYAS-এর মতো পরিষেবা নিন)

র্যানসমওয়্যার — ২০২৬ সালে বাড়তি সতর্কতা জরুরি

র্যানসমওয়্যার বাংলাদেশে দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে শুধু ঢাকায় কয়েক ডজন অফিস র্যানসমওয়্যারের শিকার হয়েছে। র্যানসমওয়্যার আপনার সমস্ত ফাইল এনক্রিপ্ট করে দেয় এবং মুক্তিপণ দাবি করে — সাধারণত বিটকয়েন বা বিকাশে ২০,০০০-১,০০,০০০ টাকা।

প্রতিরোধের উপায়:

  1. ৩-২-১ ব্যাকআপ রুল — আমাদের ডাটা ব্যাকআপ গাইড অনুসরণ করুন। ব্যাকআপ থাকলে র্যানসমওয়্যার নিয়ে ভয় নেই — আপনি ফরম্যাট করে ব্যাকআপ থেকে ফিরে আসতে পারেন।
  2. Ransomware-কে কখনো টাকা দেবেন না — টাকা দিলেও ফাইল ফেরত পাওয়ার গ্যারান্টি নেই।
  3. Email অ্যাটাচমেন্ট সাবধানে খুলুন.zip, .rar, .exe, .js ফাইল অ্যাটাচমেন্ট সবচেয়ে বিপজ্জনক।
  4. Windows Defender Ransomware Protection চালু করুন — Settings → Windows Security → Virus & Threat Protection → Ransomware Protection → Controlled Folder Access চালু করুন।

র্যানসমওয়্যার আক্রান্ত হলে:

  1. নেটওয়ার্ক থেকে সাথে সাথে কম্পিউটার আলাদা করুন (ইথারনেট কেবল খুলে দিন, WiFi বন্ধ করুন)
  2. কম্পিউটার বন্ধ করবেন না — র্যানসমওয়্যার বন্ধ হয়ে গেলেও ফাইল এনক্রিপ্টেড থাকবে
  3. BAYAS-এর সাথে যোগাযোগ করুন — 01712-644590 (WhatsApp)
  4. পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে রিপোর্ট করুন
  5. কোনো অবস্থাতেই টাকা দেবেন না

কখন প্রফেশনাল হেল্প নেওয়া জরুরি?

নিচের যে কোনো একটি অবস্থা হলে নিজে সমাধানের চেষ্টা না করে প্রফেশনাল টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন:

  1. ব্যাংকিং/ফাইন্যান্সিয়াল ম্যালওয়্যার — ব্যাংকের তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি আছে
  2. Rootkit ইনফেকশন — সাধারণ অ্যান্টিভাইরাস ধরে না
  3. Ransomware — ভুল করলে ফাইল স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে
  4. কম্পিউটার বুট হচ্ছে না — ভাইরাস MBR বা UEFI নষ্ট করে দিয়েছে
  5. অফিসের নেটওয়ার্ক আক্রান্ত — এক কম্পিউটার থেকে অন্যটিতে ছড়াচ্ছে

BAYAS-এর কম্পিউটার হোম সার্ভিস নিলে আমাদের টেকনিশিয়ান আপনার বাসা বা অফিসে এসে সম্পূর্ণ অফলাইন এনভায়রনমেন্টে ভাইরাস স্ক্যান করে, ডাটা রিকভার করে এবং সিস্টেম ক্লিন করে দেয়।

এছাড়াও আমাদের কম্পিউটার মেইনটেন্যান্স সার্ভিস এর আওতায় নিয়মিত ভাইরাস স্ক্যান ও সিকিউরিটি আপডেট রাখা হয় — ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শ।

ভাইরাসজনিত সমস্যায় BAYAS-এর সাফল্যের হার: ৯৬% — যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারী নিজে সমাধান করতে পারেন শুধু ৪০-৫০% ক্ষেত্রে। পার্থক্যটা হলো আমাদের টুলস, অফলাইন স্ক্যানিং এনভায়রনমেন্ট এবং মাল্টি-লেয়ার ডিটেকশন পদ্ধতি।


প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ভাইরাস মুক্ত অ্যান্টিভাইরাস বলতে কিছু আছে কি?

না। "ভাইরাস মুক্ত" নামে কোনো অ্যান্টিভাইরাস নেই — এটি একটি বিভ্রান্তিকর নাম। বরং Microsoft Defender ব্যবহার করুন যা ফ্রি এবং Windows-এর সাথেই আসে।

পেনড্রাইভ ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় কী?

সবচেয়ে সহজ উপায়: পেনড্রাইভ প্লাগ করার সময় Shift কী চেপে ধরে রাখুন (অটোরান বন্ধ হবে), এবং পেনড্রাইভ ওপেন করার আগে রাইট-ক্লিক করে Scan with Microsoft Defender চালান।

একাধিক অ্যান্টিভাইরাস কি ভালো?

একেবারেই না। দুটি অ্যান্টিভাইরাস একসাথে চালালে তারা পরস্পরকে ভাইরাস মনে করে দ্বন্দ্ব তৈরি করে — পিসি স্লো হয়, ক্র্যাশ করে। শুধুমাত্র একটি অ্যান্টিভাইরাস (Microsoft Defender) রাখুন।

ফোনে ভাইরাস আসতে পারে?

অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও ম্যালওয়্যার আসতে পারে — বিশেষ করে অজানা APK ফাইল ইন্সটল করলে। শুধুমাত্র Google Play Store থেকে অ্যাপ ইন্সটল করুন এবং অজানা লিংকে ক্লিক করবেন না। তবে কম্পিউটারের চেয়ে ফোনে ভাইরাসের ঝুঁকি অনেক কম।

ভাইরাস ক্লিন করতে কত খরচ হয়?

BAYAS-এ ভাইরাস ক্লিনিং সার্ভিসের খরচ:

সার্ভিসমূল্য
ভাইরাস স্ক্যান + অপসারণ (হোম ভিজিট)৭০০-১,২০০ টাকা
সম্পূর্ণ Windows রিইন্সটলেশন + ডাটা ব্যাকআপ১,৫০০-২,৫০০ টাকা
র্যানসমওয়্যার রিকভারি৩,০০০-৮,০০০ টাকা (কেসভেদে)
অফিস নেটওয়ার্ক ক্লিন (৫-১০ পিসি)৫,০০০-১০,০০০ টাকা

এন্টিভাইরাস কি ১০০% সুরক্ষা দেয়?

না। কোনো অ্যান্টিভাইরাসই ১০০% গ্যারান্টি দেয় না। জিরো-ডে ভলনারেবিলিটি, নতুন ম্যালওয়্যার, এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আক্রমণ থেকে বাঁচতে ব্যবহারকারীর সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।


সারসংক্ষেপ — আজই ৫টি কাজ করুন

ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে নিচের ৫টি কাজ আজই করে ফেলুন:

  1. Microsoft Defender চালু আছে কিনা চেক করুন — Settings → Privacy & Security → Windows Security
  2. Windows Update চালান — Settings → Windows Update → Check for updates
  3. File extension দৃশ্যমান করুন — File Explorer → View → File name extensions ✅
  4. Malwarebytes Free দিয়ে একটি স্ক্যান চালান
  5. গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের ব্যাকআপ রাখুন — Google Drive/OneDrive অথবা এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কে

এই পাঁচটি কাজ করতে মোট ৩০-৪৫ মিনিট সময় লাগবে। অথচ এগুলো করলে আপনার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে ৯০%।

যদি আপনার কম্পিউটার ইতিমধ্যেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় বা কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে বিলম্ব না করে WhatsApp-এ BAYAS-এ যোগাযোগ করুন: 01712-644590

WhatsApp-এ মেসেজ করুন:

  • আপনার কম্পিউটারের মডেল ও বয়স
  • কি ধরনের সমস্যা (কোন ভাইরাসের লক্ষণ দেখছেন)
  • ঢাকার আপনার জোন

আমরা ৩০ মিনিটের মধ্যে ফ্রি প্রাথমিক পরামর্শ দিই এবং প্রয়োজন হলে সেদিনই হোম ভিজিটের সময় দেই।


এই গাইডটি BAYAS Editorial টিম লিখেছে, ২০১৮ সাল থেকে ঢাকার ৩৬টি জোনে ৫,০০০+ কম্পিউটার সার্ভিস এবং ১,৫০০+ ভাইরাস ক্লিনিং কেসের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। তথ্য ও মূল্য জুন ২০২৬ অনুযায়ী আপডেটেড। শেষ আপডেট: ১৪ জুন, ২০২৬।

Need help now? Talk to a BAYAS technician.

Send a WhatsApp or tap to call — most jobs in Dhaka get a same-day home visit.

Call WhatsApp